গর্ভধারণের চতুর্থ মাস সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য । 4 Months Pregnancy In Bengali

IN THIS ARTICLE

গর্ভধারণের চতুর্থ মাস থেকেই সাধারণত শুরু হয় মাতৃত্বের দ্বিতীয় ধাপ। এই সময় গর্ভবতী মহিলারা শরীরে নানারকম পরিবর্তন অনুভব করে থাকেন। আর এই চতুর্থতম মাসেই গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি সব থেকে বেশি হয়। তাই, মমজংশনের এই পোস্টে আমরা আলোচনা করব গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাসে হবু মায়েদের শরীরে হওয়া সকল শারীরিক পরিবর্তন এবং গর্ভে বেড়ে ওঠা বাচ্চাটির বৃদ্ধির হাল-হকিকত নিয়ে। আপনাকে জানাব সেই সব গুরুত্বপূর্ণ নজর রাখার মতো বিষয়গুলি সম্পর্কেও, যাতে আপনার সন্তান সঠিক পরিচর্যা পায়।

গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাসের লক্ষণগুলি কি কি ?

এই সময় আপনার ফার্স্ট ট্রিমেস্টারের সমস্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি কমে গিয়ে শরীরে নতুন লক্ষণ দেখা দেইয়। (1) চলুন দেখে নিই, কী কী লক্ষণ দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাস চলছে।

  • কোষ্ঠকাঠিন্য

গর্ভাবস্থায় প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে হজম প্রক্রিয়াতে পরিবর্তন আসে, অন্ত্রের কার্যক্রম ও সঞ্চালন ধীর হয়ে পড়ে। ফলে অনেকের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা যায়। বেশি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে জল পান করলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর হতে পারে। ডায়েট চার্ট মেনে খাবার খাওয়ার অভ্যাস এবং অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করে খেলে বা স্যালাডে মিশিয়ে খেলে এই অস্বস্তি দূর হতে পারে। গর্ভাবস্থায় কোনো জটিলতা না থাকলে, এই সময় দিনে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ের একটি ভালো উপায়।

  • বুকজ্বালা

র্ভাবস্থায় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত পেট পরিপাকতন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে অনেকসময় পাকস্থলীর অ্যাসিডগুলি উপরের দিকে উঠে আসে এবং অম্বল ও বুক জ্বালার সমস্যার দেখা যায়। হরমোনের বৃদ্ধির কারণে হজম প্রক্রিয়াও হ্রাস পায়। গর্ভাবস্থায় বুকজ্বালা সাধারণ সমস্যা। ডায়েটে সামান্য কিছু পরিবর্তন, ভারী খাবরের পরিবর্তে সহজপাচ্য খাবার খেলে এবং বেশি করে জল খেলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।

  • ঘনঘন প্রস্রাব পায়

এই সময় আপনার প্রসারিত জরায়ু মূত্রাশয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তাই ঘনঘন প্রস্রাব পায়। প্রস্রাবের সময় যদি জ্বর বা গায়ে- হাত-পায়ে ব্যথা বা তলপেটে ব্যথা অনুভব করেন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

  • শ্বাসকষ্ট

বৃদ্ধিপ্রাপ্ত পেট ফুসফুসের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাই গর্ভাবস্থার এই সময় এবং পরবর্তী মাসগুলিতে শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। সামান্য শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত হৃৎস্পন্দন গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাসের সাধারণ লক্ষণ। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে, দ্রুত স্পন্দন বা শ্বাসকষ্ট যদি আপনার সহ্যাতীত হয়ে পড়ে বা আপনার হাঁটাচলা, কথা বলার মতো সাধারণ ক্রিয়াকলাপকে সীমাবদ্ধ করে তক্ষুণি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

  • মাড়ি থেকে রক্তপাত

গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনের আধিক্যের কারণে মাড়ি নরম ও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই, ব্রাশ করার সময়ে মাড়িতে ক্ষত বা সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। তাই, দাঁতের চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত চেকআপ করান এবং পরামর্শ মেনে চলুন।

  • নাক থেকে রক্তপাত 

গর্ভাবস্থায় শরীরের সর্বত্র রক্তের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। নাকের মধ্যে থাকা ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলি রক্তের চাপ সহ্য করতে না পেরে সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এমনকি, অনেকসময় রক্তনালীগুলি ফেটে গিয়ে নাক থেকে হালকা রক্তপাত হতে পারে যা অত্যন্ত স্বাভাবিক এই সময়। রক্তক্ষরণ অত্যাধিক হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

  • মর্নিং সিকনেস

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস সাধারণ হলেও, চতুর্থ থেকে পরবর্তী মাসগুলিতেও কেউ কেউ সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লান্তিভাব, গা গোলানো বা বমি বমিভাব অনুভব করতে পারেন।

  • যোনী স্রাব

শরীরে হরোমোনের পরিবর্তনের কারণে ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ বা সাদা যোনীস্রাব নির্গমন বেড়ে যেতে পারে।

গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাসে শরীরের যেসব পরিবর্তন হয়

চতুর্থ মাসে শরীরের যেসব পরিবর্তন আসে তার মধ্যে সর্বাধিক পরিবর্তন স্পষ্ট হল একটি সুদৃশ্যমান বেবি বাম্প বা বড় পেট। সবথেকে ভালো ব্যাপার হল – গর্ভাবস্থায় গত তিন মাস ধরে চলে আসা সেই খিটখিটে মেজাজ, খাবারের প্রতি অনীহা – এর মত অপ্রীতিকর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াগুলি প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়, মর্নিং সিকনেসের প্রকোপ কমে; গর্ভাবস্থার এই ১৩-১৬ তম সপ্তাহে।

এই পর্যায়ে গর্ভপাতের সম্ভাবনা কমে যায়। আপনার শরীর ও মন তুলনামূলকভাবে আগের থেকে বেশ তরতাজা ও প্রাণবন্ত থাকে। আপনার গর্ভে আরও একটি প্রাণ বেড়ে উঠছে, তাই আপনার শরীরে কিছু শারীরিক পরিবর্তন আসাটা তো স্বাভাবিক। তাই না? যেমন –

  • ত্বকের পরিবর্তন

গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনের আধিক্যের কারণে অনেকসময় ত্বকে পরিবর্তন হয়। কিছু কিছু মহিলার ত্বক তাই এই সময় বিবর্ণ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। নিয়মিত ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার ও লোশন লাগিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিৎ এই সময়।

  • স্তনের পরিবর্তন

গর্ভাবস্থায় রক্ত চলাচল বাড়ার পাশাপাশি মহিলাদের স্তনের আকার বৃদ্ধি পায় এবং শিরাগুলি লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে, স্তনববৃন্ত তার আশেপাশের অঞ্চল গাড় বাদামী আকার ধারণ করতে পারে।

  • এডিমা

চতুর্থ মাস ও গর্ভাবস্থার পরবর্তী মাসগুলিতে হাত ও পা ফুলতে পারে। দীর্ঘক্ষণ এক টানা বসে বা দাঁড়িয়ে না থেকে মাঝেমধ্যে বিরতি নিয়ে অবস্থানের পরিবর্তন করলে এই ফোলাভাব কমতে পারে। তবে অবস্থা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

  • ভ্যারিকোজ শিরা (varicose veins)

দেহে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য পায়ের শিরাগুলি বড় হতে পারে। যাকে বলে varicose veins। এমনকি, পেটে ও উরুর পাতলা চামড়ার ওপর হালকা লালচে প্যাচ বা ফাটলের মত দাগ দেখা যায়। প্রসবের পর দাগগুলি বিবর্ণ হয়ে মিলিয়ে যায়।

এছাড়া এই সময়, গর্ভাশয় প্রসারিত হওয়ার কারণে পিঠ, পেট, উরু ও কুঁচকি এলাকায় টান বা চাপ বা ব্যথা অনুভব করতে পারেন। ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। তবে, পরিবর্তন সে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক যাই হোক, আপনার শরীরের এই সব লক্ষণগুলিই আপনাকে বারবার অনুভব করাবে মা হওয়ার সেই স্বর্গীয়সুখ।

গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাসে শিশুর বিকাশ

গর্ভধারণের চতুর্থ মাসে গর্ভস্থ বাচ্চার বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে তাই মায়ের শরীরে আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এই পর্যায়ে ভ্রূণ এবং নাড়ি গঠন করার জন্য আপনার রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। মাথা থেকে পা পর্যন্ত এই সময় আপনার গর্ভস্থ সন্তানের মাপ থাকে প্রায় ৬-৭ ইঞ্চি।

আপনার সন্তানের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং সংজ্ঞাবহ ইন্দ্রিয়গুলি এই সময় সুগঠিত হয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি এখন আরও বেশি সক্রিয় এবং নমনীয় হয়ে ওঠে। আল্ট্রাসাউন্ড করলে, আপনার ছোট্ট সোনাটির অসাধারণ সব কার্যকলাপ, অভিব্যক্তি চাক্ষুষ করতে পারবেন। মস্তিষ্কের স্নায়ু ও মুখের পেশী সুগঠিত হয়ে যাওয়ার কারণে, সে এখন আঁকড়ে ধরতে, বুড়ো আঙুল চুষতে এমনকি ভেংচি কাটতেও শিখে যায়।

আপনার সঙ্গে সঙ্গে আপনার সন্তানেরও এই সময় শারীরিক পরিবর্তন হয়। (2) ভ্রূণ থেকে ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ মানুষের আদলে বেড়ে ওঠার এই পর্যায়ে তার বিকাশের চিত্ররূপটা হল

দেহের অংশবিবর্তনের পর্যায়
মুখের বৈশিষ্ট্যচোখ, কান, নাক, চুল ও মুখের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলি আরও প্রকট হয়ে ওঠে
কানকানের হাড় শক্ত হয়। সমগ্র কানের গঠনের বিকাশ ঘটে।
ঘাড়গঠিত
ত্বকস্বচ্ছ ত্বকের সঙ্গে শিরাগুলি দৃশ্যমান হয়। ত্বকের নীচে ফ্যাট সেল বা কোষের গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ফুসফুসগঠন শুরু হয়। তবে শ্বাসযন্ত্রের অঙ্গ হিসেবে কার্যকরী হয় না।
কঙ্কাল তন্ত্রহাড় এবং পেশীর বিকাশ হতে থাকে
চুলশরীর জুড়ে ল্যানুগো দেখা যায় যা নরম ত্বকের সুরক্ষা দেয়
চোখের পাতাবিকাশ শুরু হয়
আঙ্গুলের ছাপঅনন্য বা ইউনিক হতে শুরু করে
লেজসম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়
হাত ও পাফ্লেক্সিবেল হয়ে ওঠে
কিডনিকার্যকরী হয়ে ওঠে

চতুর্থ মাসের যত্ন

আপনার বাচ্চার সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি, এই সময় নিজেকে সুস্থ রাখাও প্রতিটা মায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য। জেনে নিন এই সময় কী কী করা উচিৎ আর কী কী উচিৎ না।

যা যা করণীয়

  • চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে, হাঁটা, যোগব্যায়াম, সাঁতার বা আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন এমন কিছু সহজ ওয়ার্ক আউট করার যে অভ্যাস আছে তা চালিয়ে যান।
  • বাম দিকে কাত হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। আরামের জন্য চারপাশে এবং দু’পায়ের মধ্যে বালিশ নিতে পারেন। শোওয়ার সময় মায়ের এই অবস্থান গর্ভস্থ ভ্রূণের মধ্যে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
  • নাক থেকে হাল্কা রক্তপাত হওয়া, স্টিফ নোজ বা কান ব্লক হয়ে যাওয়া খুব সাধারণ সমস্যা। তাই, হাতের কাছে টিস্যু ও প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখার চেষ্টা করুন।
  • কিছু মেটার্নিটি জামাকাপড় মানে হালকা কম টাইট এরকম জামাকাপড় পরার চেষ্টা করুন। আরাম পাবেন।
  • এই সময় যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নেবেন।
  • মাড়ি থেকে রক্তপাতের মত ওরাল কমপ্লিকেশন এড়ানোর জন্য নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপের জন্য যান।

যা যা করা উচিৎ নয়

  • মদ্যপান করবেন না। গর্ভাবস্থায় মদ্যপান করলে ভ্রূণের ফেটাল অ্যালকোহল সিন্ড্রোম (FAS) দেখা দিতে পারে।
  • হট টাব বাথ নেবেন না, কারণ উচ্চ তাপমাত্রা গর্ভস্থ ভ্রূণের পক্ষে ক্ষতিকারক।
  • ধূমপান করবেন না। ধূমপান করলে বাচ্চার মধ্যে প্রতিবন্ধকতা বা জন্মানোর সময় নিম্ন ওজনের হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

চতুর্থ মাসের গর্ভাবস্থার ডায়েট

গর্ভে বেড়ে ওঠা প্রাণটি আপনার রক্ত থেকেই পুষ্টি সংগ্রহ করে। তাই, গর্ভধারণের চতুর্থ পর্যায়ে, আপনার সেই সব খাবার খাওয়া উচিত যাতে আপনার শিশুর স্বাস্থ্যকর বিকাশ এবং সঠিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সবরকমের পুষ্টিগুণ উপস্থিত থাকে। এই সময় মায়ের দেহে ও শারীরিক কার্যক্রমে নানান রকম পরিবর্তন দেখা যায়, তাই কী খাচ্ছেন এবং কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন সেই ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন (3)

যেসব খাবার খেতে হবে

  • আয়রন সমৃদ্ধ খাবার

এমন খাবার খান যা আপনার দেহে আয়রনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। যেমন- ডিম, মাছ, মাংস, মেটে, সয়াবিন, বাদাম, বিভিন্ন রকমের উপকারী বীজ, ব্রাউন রাইস, সবুজ শাক সবজি, ফলমুল ও ড্রাই ফুট ।

  • ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার

পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা মেটানোর জন্য উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। যেমন- ওটমিল, বার্লি, সিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসি, আমন্ড বাদাম, পেস্তা বাদাম, পিক্যান বাদাম, ব্রকোলি, ডুমুর, কড়াইশুটি, সুইট কর্ন বা ভুট্টা, রাস্পবেরি, স্ট্রবেরি, আপেল, কলা, এবং ন্যাশপাতি। (3)

  • ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার

দুধ, দই, চিজ এর মতো ডেয়ারি প্রোডাক্ট, ব্রকোলি, আমন্ড বাদাম, কলমিদল শালুক প্রভৃতি খাবার খেলে দেহের ক্যালশিয়ামের চাহিদা মেটে এবং তা ভ্রূণের হাড়ের বিকাশে সহায়তা করে।

  • জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার

ল্যাম্ব, বিফ, পালং শাক, মাশরুম, কুমড়ো, লাউ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক আছে। জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, স্বাস্থ্যকর স্নায়ুতন্ত্র গড়ে ওঠে।

  • ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন-সি তে ভরপুর বিল পেপার, মিষ্টি আলু, ফুল কপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, টমেটো, এবং শাকপাতাতে পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় প্রধান পুষ্টি উপাদান।

  • প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার

বিভিন্ন ধরনের উপকারী বাদাম ও বীজ, মুরগির মাংস, সোয়াবিনে পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় প্রোটিন উপাদান। কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে পড়ে ভাত, রুটি, পাস্তা এবং আলু।

  • ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার

এছাড়াও, প্রসবের সময় বাচ্চার কম ওজন বা প্রতিবন্ধকতা আসার রিস্ক কমানোর জন্য আপনার ডায়েটে ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত দরকার। তাই, রোজকার ডায়েটে টাটকা জলের মাছ, টুনা, বাদাম, অলিভ ওয়েলের রান্না করা খাবার রাখার চেষ্টা করুন যাতে ওমেগা ৩, ৬, ৯ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে।

যে খাবারগুলি খাওয়া উচিত নয়

  • যেহেতু, এই সময় কোষ্ঠকাঠিন্য বা অম্বল ও বদহজমের মতো সমস্যা হয়, তাই ময়দা দিয়ে বানানো খাবার যেমন মোমো, শিঙারা, চাউমিন এর মত খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ। আবার, ময়দা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে তোলে।
  • বিভিন্নরকম সামুদ্রিক মাছ এড়িয়ে চলা উচিৎ।
  • কাঁচা বা কম রান্না করা ডিম খাওয়া উচিৎ না।
  • অত্যাধিক চা বা কফি পান করা গর্ভাবস্থায় শরীরের পক্ষে ভালো না।
  • এই সময় সফট চিজ বা ব্লু চিজ এড়িয়ে চলা উচিৎ। কারণ, এরা খাদ্যে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই চিজ খেলেও সর্বদা হার্ড বা শক্ত চিজই খাওয়া উচিৎ।
  • এই সময় অত্যাধিক মশলাযুক্ত খাবার, ভাজাভুজি বা অত্যাধিক তৈলাক্ত খাবার, বাইরের খাবার বা স্ট্রিট ফুড খাওয়াও উচিৎ না। যতটা সম্ভব ঘরে বানিয়ে খাবার খাওয়া উচিৎ। খাবারে অত্যাধিক কাঁচা নুন বা চিনি না মেশানোই ভালো। গর্ভবতী মহিলাদের প্রতিদিন কমপক্ষে দুই বা তিন লিটার জল অবশ্যই পান করা উচিৎ।

গর্ভাবস্থায় চতুর্থ মাসের জন্য ব্যায়াম

গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাসে ব্যায়াম করা হবু মা ও শিশু উভয়ের পক্ষেই খুব উপকারী। গর্ভাবস্থায় যে সমস্ত মহিলারা ব্যায়াম অনুশীলন করেন তাদের কম পিঠব্যথা হয়, আরও ভাল শারীরিক গঠন হয় এবং আরও বেশি শক্তি অনুভব করেন। নীচে কিছু ব্যায়ামের কথা আলোচনা করা হল।

  • হাঁটা

গর্ভাবস্থায় হাঁটা খুব লাভজনক। রোজ দশ মিনিট করে হাঁটা শুরু করুন, পরে সময়টা আস্তে আস্তে বাড়িয়ে আধ ঘন্টা পর্যন্ত করতে পারেন। সকাল সন্ধ্যে যখন ইচ্ছে বেড়িয়ে পড়ুন হাঁটতে। হাঁটলে শুধু শরীর নয় মনও ভালো থাকে। এছাড়া শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। গর্ভ সংস্কারের অন্তর্গত কিছু ধ্যান মুদ্রা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপকারী হয়।

  • সাঁতার

সাঁতার সব বয়সের মানুষের জন্য অসাধারণ ব্যায়াম। এই কারণে সাঁতার বা জলে এরোবিক্স ইত্যাদি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে মাংসপেশী মজবুত হয় ও পেটে আরাম হয়।

  • আস্তে আস্তে দৌড়নো

আগে থেকে দৌড়ানোর অভ্যেস থাকলে আস্তে আস্তে দৌড়াতে পারবেন এই অবস্থায়। তবে ক্লান্তি অনুভব করলে বন্ধ করে দিন। (4)

  • যোগব্যায়াম

গর্ভাবস্থায় যোগাসন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর জন্য আপনি কোনো প্রশিক্ষকের সাহায্য নিতে পারেন। এছাড়া শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। গর্ভ সংস্কারের অন্তর্গত কিছু ধ্যান মুদ্রা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপকারী হয়। এটি আপনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে শুরু করতে পারেন।

  • সতর্কতা

যখন ব্যায়াম করবেন তাতে খেয়াল রাখবেন পেটে যাতে কোনওভাবে চাপ না পড়ে এবং সব ব্যায়ামই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিৎ।

গর্ভাবস্থায় চতুর্থ মাসের স্ক্যান এবং পরীক্ষা

আপনারা গর্ভাবস্থা ঠিকঠাক চলতে থাকে যাতে তার জন্য মাঝে মাঝেই ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার। কোনও সমস্যা দেখা গেলে সময় থাকতেই চিকিৎসা করা যায়। চতুর্থ মাসে নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করা যেতে পারে।

  • গর্ভবতী মহিলার ওজন ও রক্তপাত হচ্ছে কিনা তার পরীক্ষা
  • গর্ভাশয়ের আকার মাপা
  • শর্করা ও প্রোটিনের জন্য মূত্র পরীক্ষা
  • ভ্রূণের হার্টবিট পরীক্ষা

এই সামান্য পরীক্ষাগুলো ছাড়া ডাক্তার আরও কিছু পরীক্ষা করতে দেন। (5) সেগুলো নিম্নপ্রকার :

১. আল্ট্রাসাউন্ড টেস্ট

আল্ট্রাসাউন্ড টেস্ট দ্বারা পরীক্ষা করা হয় ভ্রূণ সঠিকভাবে বেড়ে উঠছে কিনা। আর এই টেস্টে দেখা যায় যে গর্ভে একটা বাচ্চা আছে না দুটো বাচ্চা অর্থাৎ যমজ। প্ল্যাসেন্টার স্থিতি ঠিক আছে কিনা সেটা জানার জন্যও আল্ট্রাসাউন্ড টেস্ট করানো হয়। (6)

২. আলফা ফোটোপ্রোটিন টেস্ট

এই আলফা ফোটোপ্রোটিন টেস্ট গর্ভাবস্থার ১৬ সপ্তাহের আশেপাশে নিউরাল টিউবে দোষ আছে কিনা তা জানার জন্য করা হয়। প্রথম তিনমাসে এই সমস্যা আছে কিনা জানার জন্য নিউকল ট্রান্সলুসেন্সি টেস্ট করা হয়।

৩ অ্যামনিওসেন্টেসিস টেস্ট

অ্যামনিওসেন্টেসিস টেস্ট গর্ভাবস্থার ১৫ থেকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে করানো হয়। গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যজনিত কোনো সমস্যার আশঙ্কা থাকলে এই টেস্ট করা হয়।

৪. ইন্টিগ্রেটেড প্রিনেটাল স্ক্রিনিং

বাচ্চার ডাউন সিনড্রোম জাতীয় বিকৃতি আছে কিনা জানতে ইন্টিগ্রেটেড প্রিনেটাল স্ক্রিনিং করানো হয়।

গর্ভাবস্থায় চতুর্থ মাসের সময় সাবধানতা

গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাসে যখন আপনি দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে প্রবেশ করতে চলেছেন তখন আপনাকে আগের থেকে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সতর্ক থাকতে কী কী করবেন ও কী কী করবেন না সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।

কী কী করবেন ?

  • আপনার ডাক্তার অনুমতি দিলে নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যান। নিয়মিত হাঁটুন। যোগ ব্যায়াম করুন। সাঁতারও কাটতে পারেন। আপনার যে সমস্ত এক্সারসাইজ করতে ভালো লাগে করুন। এতে সন্তান হওয়ার সময় জটিলতা তৈরি হবে না। শরীর সুস্থ থাকলেই আপনি সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে পারবেন।
  • বাম পাশ ফিরে শুয়ে বালিশ নিয়ে ঘুমোন। দুই পায়ের মাঝে বালিশ নিয়ে ঘুমোন এতে আরাম পাওয়া যায়। এতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে আর ভ্রূণের বৃদ্ধিও ভালো করে হয়। (7)
  • বন্ধ নাক, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, কান বন্ধ হয়ে যাওয়া – এইগুলো কিছু সাধারণ জিনিস যা চতুর্থ মাসে হয়। সবসময় সঙ্গে টিস্যু পেপার নেবেন আর প্রয়োজনে ওষুধও সঙ্গে রাখবেন।
  • কিছু গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপযুক্ত জামা কাপড় কিনে ফেলুন। কারণ এই সময় পেটের পেশী দ্রুত প্রসারিত হতে শুরু করে। তাই আগে যে সব জামা কাপড় আপনি পরতেন সেগুলো পরতে অস্বস্তি বোধ হতে পারে।
  • নিয়মিত দাঁতের যত্ন নিন। ডেন্টাল ক্লিনিকে গিয়ে ডেন্টিস্টকে দেখান। চেক আপ করলে মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার মত সমস্যা – যেগুলো চতুর্থ মাসে হয় , সেগুলো আর হয় না।
  • এই সময় আপনার সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া খুব জরুরি। সেক্ষেত্রে যৌন মিলন একটা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তবে তার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়াই ভালো।
  • স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর জল পান করুন।

কী কী করবেন না ?

  • মদ, অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন। এতে ভ্রূণের ক্ষতি হয়। ফেটাস অ্যালকোহল সিনড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • বিড়ালের জঞ্জাল পরিষ্কার করবেন না এতে অ্যালার্জি, টক্সোপ্লাজমোসিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • কখনোই স্টিম বাথ নেবেন না বা বাথ টবে গরম জলে স্নান করবেন না। কারণ জলের উচ্চ উষ্ণতা বাড়ন্ত ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকারক।
  • ধূমপান বন্ধ করে দিন। কারণ দেখা গেছে যারা ধূমপান করে তারা কম ওজনের বাচ্চার জন্ম দেন এবং সেইসব বাচ্চার অনেক দুর্বলতা বা অক্ষমতা দেখা যায়।
  • ভারী জিনিস তুলবেন না বা খুব কঠিন কিছু কাজ করবেন না। যতটা সম্ভব আরাম করার চেষ্টা করবেন।
  • পেটের ওপর চাপ দিয়ে শোবেন না।

আপনার চতুর্থ মাসে ওজন বৃদ্ধি, ভ্যাকসিনেশন, যোনি থ্রাশ ইত্যাদি নিয়ে সাধারণ উদ্বেগ

এই অবস্থায় কিছু সাধারণ উদ্বেগ সৃষ্টি হয় যা আপনাকে এবং আপনার সঙ্গীকে চিন্তিত করে তোলে। এসবের সমাধানের জন্য ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

ওজন বৃদ্ধিই হল উদ্বেগের প্রথম কারণ। বলে রাখা ভালো – দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধি হল প্রতি সপ্তাহে ১/২ কেজি। খাবারের পছন্দ – অপছন্দগুলোতেও পরিবর্তন আসে।

কোষ্ঠ কাঠিন্য , বুক জ্বালাসহ আরও কিছু সমস্যা দেখা যায়। নিজে থেকে ওষুধ নেওয়ার ভুল না করে ডাক্তার দেখানো বুদ্ধিমানের কাজ। গর্ভপাত বা ঝুঁকিপূর্ণ প্রেগন্যান্সির ইতিহাস থাকলে যৌন মিলনের সময়ও সতর্ক থাকা উচিৎ। ভ্যাকসিনেশন সংক্রান্ত কোনো জিজ্ঞাস্য থাকলে উদ্বেগ না করে ডাক্তারবাবুর পরামর্শ মত চলুন।

হবু বাবার জন্য টিপস

শুধু যিনি মা হতে চলেছেন তিনিই একমাত্র নন, যিনি বাবা হতে চলেছেন তার জন্যও এই সময়টা খুব স্পেশাল এবং গুরত্বপূর্ণ। তাকেও কিছু নির্দিষ্ট জিনিস বুঝতে হবে। তাকে তার গর্ভবতী স্ত্রী কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তা বুঝতে হবে । গর্ভবতী মহিলার মানসিক ও শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে তাকে কিছু জিনিস করতে হবে, সেগুলি হল –

  • এই সময় হবু বাবার উচিৎ ঘরের কাজে সহযোগিতা করা। কারণ গর্ভবতী মায়ের পক্ষে ঘরের ও বাইরের কাজ করা অনেকটাই মুশকিল হয়ে যায়।
  • এই সময়ে গর্ভবতী মায়ের শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক যে পরিবর্তন আসে সেটা বুঝতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গর্ভের বাচ্চার কীভাবে বড় হচ্ছে সেটা বুঝতে হবে। দরকার পড়লেই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
  • এই অবস্থায় সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানো একান্তই প্রয়োজন। পাশে থেকে তাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনারা দুজনই জীবনের একই অধ্যায়ে আছেন।
  • আগে যারা বাবা হয়েছেন বা পরিচিত কেউ যিনি কিছুদিনের মধ্যে বাবা হতে চলেছেন , তাদের সঙ্গে কথা বলুন। আমার মনের চিন্তা ভাবনা, ভয়, আশঙ্কা, অনুভূতি – সব ভাগ করে নিন। এতে আপনার মন সুস্থ থাকবে এবং আপনি অহেতুক ভয় পাবেন না। বরং অনেক উপকারী তথ্য জানতে পারবেন।

গর্ভাবস্থায় চতুর্থ মাস হল দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে প্রবেশ করার প্রথম ধাপ। এই সময় অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা দরকার। আপনার প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বললে মনের ভয় দূর হয়ে যাবে, তাই কাছের মানুষদের সঙ্গে কথা বলুন। আপনি এখন গর্ভাবস্থার একটি সুন্দর পর্বে আছেন যেখানে আপনার গর্ভের বাচ্চার সম্পূর্ণ রূপান্তর হচ্ছে। আপনি হয়ত কখনো একই সঙ্গে উত্তেজিত, চিন্তিত এবং ভয়ভীত অনুভব করবেন। বুঝতে হবে গর্ভাবস্থায় এই মিশ্র অনুভূতি বা আবেগ স্বাভাবিক। জীবনের এই সুন্দর পর্যায় উপভোগ করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন

১) দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা কত?

প্রথম তিনমাসে গর্ভপাত হয় – এটা অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে, কিন্তু পরের তিনমাসে গর্ভপাতের আশঙ্কা অনেক কম থাকে। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে গর্ভপাত কিছু কারণেই হয়ে থাকে, যেমন – ধূমপান, মদ্যপান বা অন্য কিছু শারিরীক সমস্যা। এই কারণে সেই সব জিনিস থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন যেসব জিনিস আপনার ও আপনার গর্ভের সন্তানের ক্ষতি করে।

২) চতুর্থ মাসে কি যৌনতা নিরাপদ?

হ্যাঁ, আগের মাসগুলোতে আপনার যদি কোনো সমস্যা না থেকে থাকে, তাহলে চতুর্থ মাসে যৌন মিলন নিরাপদ। এই সময় যৌন মিলনের ইচ্ছেও খুব স্বাভাবিক। এতে সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে। তবে তার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া উচিৎ। এছাড়া এই সময় গর্ভবতী মহিলাদের পেট বাড়তে শুরু করে তাই যৌন মিলনের সময় আপনি অন টপ পজিশনে চেষ্টা করতে পারেন। এই দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

যেহেতু, চতুর্থ মাস থেকে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের শুরু হয় তাই অনেক গর্ভবতী মহিলারাই জানেন না এইসময় কী করা উচিৎ কী করা উচিৎ নয়। আশা করি এই তথ্যগুলো আপনাদের অনেক সাহায্য করবে।

References: