আপনি কি সদ্য মা হয়েছেন ? আপনি নিশ্চয়ই এইভাবেই মাতৃত্বের স্বাদ উপভোগ করছেন

Image: Shutterstock

আপনি কি সম্প্রতি মা হয়েছেন?  আপনার সদ্যজাত শিশুকে নিয়েই সারাদিন কেটে যায় তাইনা ? তবে আপনার ছোট্ট সোনা কিন্তু ‘সদ্যজাত’ হয়ে থেকে যাবে না। দ্রুত বেড়ে উঠবে আপনার চোখের সামনে। তবে ঘুমহীন রাত ভীষণ কষ্টকর হলেও এই সময়টি যথাসাধ্য উপভোগ করে নিন।

আপনার সন্তান যতই বড়ো হোক না কেন আপনার কাছে সেই ছোটই থাকবে। সন্তানের জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস মায়ের জন্য শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্লান্তিকর। তবে মাতৃত্ব উপভোগ করার এটাই সেরা সময় কারণ আপনার আপনার সোনা সারাজীবন পুচকে হয়ে থাকবে না এরপর হাটতে শিখবে, কথা বলতে শিখবে, স্কুলে যাবে। আপনি এই অতুলনীয় সময়ের  স্বাদ উপভোগ করতে পারেন এইরকম কয়েকটি বিষয় নিয়ে আজ আমরা কথা বলবো।

আপনার ছোট্ট সোনার গায়ের গন্ধ কি সুন্দর না ?

Image: Shutterstock

সদ্যজাত শিশুর গন্ধ অতুলনীয়, যা আপনি অবশ্যই কিছুদিন পর থেকে মিস করতে চলেছেন। এই সুগন্ধ পাওয়ার সীমা কিন্তু খুব কম । কারণ খুব শীঘ্রই সে ধুলো ময়লা মেখে খেলতে শুরু করবে এবং তখন তার শরীরের আলাদা গন্ধ হবে । সব মা ও বাবা  নিজের নবজাতকের গন্ধ শুঁকতে খুবই পছন্দ করেন । তবে দুঃখের বিষয়, এই পর্বটি বেশি দিন স্থায়ী হয় না। তাই এ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না, যতটা পারবেন এটি উপভোগ করে নেবেন।

বাচ্চা কি খাবে তা নিয়ে ভাবতে হয় না

Image: Shutterstock

প্রথম ছয় মাস তো আপনাকে ভাবতেই হবে না আপনার ছোট্ট সোনা কি খাবে, তাই নিশ্চিন্তে এই সময়টি আপনার সদ্যোজাতের সঙ্গে উপভোগ করুন। ছয় মাস পর থেকে যখন সে খাবার খেতে শিখবে ও খাবারের স্বাদ বুঝতে আরম্ভ করবে, তখন থেকে শুরু হবে আলাদা এক ভাবনা। আর বাচ্চার যদি খাওয়া দাওয়া নিয়ে সমস্যা থাকে , তাহলে তো আপনার কাজ বাড়তে চলেছে ।  তাই প্রথম কয়েকটা মাস এই ভাবনা চিন্তা দূরে রেখে পুচকুর সাথে খেলুন।

‘বাচ্চা তো খুবই ছোট’

Image: Shutterstock

‘বাচ্চা তো খুবই ছোট’ এই কথাটি বললে পারিবারিক অনুষ্ঠান বলুন বা বন্ধুদের সাথে দেখা করা, না যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে এইসব জায়গায় আর আপনাকে যেতে কেউ জোর করবে না ।  আপনি আরাম করে আপনার বাচ্চার সাথে সময় কাটাতে পারবেন।

বাচ্চা অনেকসময় এক দৃষ্টিতে এক জায়গায় তাকিয়ে থাকে

Image: Shutterstock

আপনার সোনা হামাগুড়ি দিতে শুরু করলে আপনি আর এই সময়কে আটকে রাখতে পারবেন না । এরপর বাচ্চা ধীরে ধীরে চলতে শুরু করবে আর বাচ্চা যা পাবে মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে নেবে। তখন আপনার মনে পড়বে আপনার পুচকু জন্মের পরে কিভাবে চুপ করে শুয়ে শুয়ে খেলতো আর এক দৃষ্টিতে এক জায়গায় তাকিয়ে থাকতো, তখন আপনি ভাবতেন কি ভাবছে ও এতো ? কি ঠিক বলছি তো ? তাই আপনার নবজাতকের সেই সুন্দর দৃষ্টিকে মনের কোঠায় আগলে রাখুন।

বাচ্চা একটু বড়ো হলে

যদি আপনি চাকুরিরতা হন, তাহলে হয়তো ছয় মাস পর থেকেই নিজের কাজের জায়গায় আপনাকে ফিরতে হবে, তাই বাচ্চাকে দেখার জন্য অন্য কারোর ওপর ভরসা করতে হবে আপনাকে । নয় আপনার শ্বাশুড়ি মা বা আপনার মা বা কোনো আয়া, তাইতো ? এছাড়া কোনো উপায়ও নেই। তাই আপনি অন্য কারোর হাতে বাচ্চাকে দেখার দায়িত্ব দিলেও নিজে দেখাশোনার ব্যাপারটা মিস করবেন অবশ্যই। তাই যখনই আপনি আপনার শিশুর কাছে যাবেন, সেই সময়টা তাকে ভালোভাবে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

সুতরাং, আপনার সদ্যোজাতর সাথে আপনার যে মুহুর্তগুলি উপভোগ করার তা প্রথম কয়েক মাসেই করে নিন । কারণ শীঘ্রই সে আপনার কোল থেকে নেমে অন্য এক জগতে পাড়ি দেবে যে !