গর্ভাবস্থায় কোন ফলগুলি খাওয়া উচিত এবং উচিত নয় | Pregnancy Fruit List In Bengali

Pregnancy Fruit List In Bengali

Image: Shutterstock

IN THIS ARTICLE

দ্য নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটিকস জার্নাল থেকে জানা যায় গর্ভাবস্থায় মাত্র 50 শতাংশ গর্ভবতী মহিলারাই সঠিক পরিমানে ফল খেয়ে থাকেন (1)। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত টাটকা ফল খাওয়া খুবই প্রয়োজন। আমাদের এই প্রতিবেদনে গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত বা অনুচিত বা কেনই বা খাওয়া উচিত তা সম্পর্কে জানাবো।

গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার যেসব উপকারিতা আছে, তা সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হল।

  • ভিটামিন সি টিস্যুর নানা সমস্যা, অল্প কেটে গেলে তা সারিয়ে তুলতে এবং দাঁতকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • ফলে থাকা পটাশিয়াম শরীরের ব্লাড প্রেসার ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
  • ফলে উপস্থিত ফাইবার হজম শক্তি বৃদ্ধি করে ও শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে।
  • রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা (RBC) বাড়িয়ে তোলে।
  • ফলে থাকা ক্যালসিয়াম বাচ্চার হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে তোলে।
  • অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রচুর পরিমানে থাকার জন্য ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সারা শরীরে রক্ত চলাচলও সঠিক রাখে।

বেশিরভাগ ফলেই অল্প পরিমানে সোডিয়াম, ফ্যাট, ক্যালোরি ও কোলেস্টেরল থাকে, তাই এটিকে অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাদ্যের তালিকার মধ্যে ফেলা হয়।

গর্ভাবস্থায় খাওয়ার সেরা ফল কি কি ?

1. কলা

পুষ্টিগত মানের দিক দিয়ে দেখলে কলা হল প্রথম। এটি খেতেও সুস্বাদু এবং খেলে পেটও ভর্তি হয়। এতে থাকে প্রচুর পরিমানে ফোলেট, ভিটামিন বি ৬, সি , পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। এই
ফোলেট গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ভ্রূণকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম আপনাকে স্ট্রোক ও গর্ভাবস্থার অন্যান্য জটিলতার থেকে দূরে রাখতে পারে (2)। সাধারণত ডাক্তাররা গর্ভবতী মহিলাদের প্রথম ট্রাইমেস্টারে প্রতিদিন কলা খাওয়ার নির্দেশ দেন (3)

2. পেয়ারা

পেয়ারা ভিটামিন সি, ই, আইসো-ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও পলিফেনল উপাদানে পরিপূর্ণ (4)। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে ও শরীরের রক্ত চলাচল সঠিক রাখে।

3. আঙুর

আঙুরে থাকে নানা ধরণের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, তাই এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে ও শরীরকে নানা ইনফেকশন থেকে বাঁচায় (5)

4. আম

আম যেমন খেতে সুস্বাদু, এর গুণও প্রচুর। এটি ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও এনার্জিতে ভরপুর। এছাড়া ভিটামিন সি থাকায় গর্ভাবস্থায় হওয়া হজমের অসুবিধা ও অল্প ধরণের ইনফেকশন থেকে বাঁচায়। যেহেতু আমে অনেক ক্যালোরি থাকে তাই তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে এটি খাওয়া উচিত, কারণ এই সময় আপনার শরীরের ক্যালোরির প্রয়োজন (6)

5. আপেল

গর্ভবতী মহিলা ও তার গর্ভস্থ বাচ্চা উভয়ের জন্যই আপেল খুবই স্বাস্থ্যকর কারণ এতে প্রচুর পরিমানে ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপস্থিত। তাই রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। এটি গর্ভস্থ শিশুর ভবিষ্যতে হাঁপানি হওয়ার থেকে রক্ষা করতে পারে (7)

6. সবেদা

সবেদায় ইলেক্ট্রোলাইট, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এ, এনার্জি উপস্থিত। এটি গর্ভবতী মহিলার পাশাপাশি যেসব মহিলা সদ্য মা হয়েছেন তাদের জন্যও খুব উপকারী। সবেদা পেটের গন্ডগোল, ডাইরিয়া সারাতে সাহায্য করে (8)

7. বেদানা

গবেষণায় জানা গেছে, বেদনা নাকি গর্ভবতী মহিলার ক্ষেত্রে প্ল্যাসেন্টায় আঘাতের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে (9)। এতে আছে ফোলেট, ক্যালসিয়াম, এনার্জি, আয়রন, প্রোটিন ও নানা ধরণের পুষ্টিগুণ।

8. লেবু

গর্ভবস্থায় লেবু খাওয়া খুবই উপকারী। এটি বমি বমি ভাব দূর করতে খুবই উপযোগী। গর্ভাবস্থায় লেবুর জল কিডনির কার্যকারিতা সঠিক রাখতে ও ইউরিনের ইনফেকশনের থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে (10)

9. কিউই

এতে থাকে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফলে এটি শরীর থেকে ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি, কে, কপার, ম্যাগনেসিয়াম উপস্থিত এই ফলে, তাই এটি ডেলিভারির পর শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

10. নাসপাতি

নাসপাতিতে উপস্থিত পটাসিয়াম মা ও তার বাচ্চার হার্ট সংক্রান্ত ক্রিয়াকলাপকে সঠিক রাখতে সাহায্য করে (11)

11. স্ট্রবেরি

স্ট্রবেরিতে ভিটামিন সি থাকে প্রচুর পরিমানে, তাই এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও ব্লাড প্রেসার সঠিক রাখতে সাহায্য করে (12)

12. তরমুজ

ফাইবার, ভিটামিন, পটাসিয়াম উপস্থিত তরমুজে। এটি গর্ভাবস্থার বমি বমি ভাবকে দূর করতে সাহায্য করে।

13. আতা

আতা গর্ভাবস্থায় হওয়া ক্লান্তিকে শরীর থেকে দূর করতে সাহায্য করে কারণ এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর (13)

গর্ভাবস্থায় কি কি ফল উচিত নয় ?

নিয়মিত ফল খাওয়া খুবই ভালো অভ্যেস, কিন্তু অধিক মাত্রায় কখনোই খাওয়া উচিত নয়।

  • গর্ভবস্থায় আঙুর ও আনারস বেশি পরিমানে খাবেন না।
  • কাঁচা এবং পাকা পেঁপেতে থাকে এক ধরণের ল্যাটেক্স উপাদান যা জরায়ুর সংকোচনের কারণ হতে পারে এবং গর্ভপাত ঘটাতে পারে (14)

গর্ভাবস্থায় আপনার কতটা ফল খাওয়া উচিত?

গর্ভবস্থায় দিনে দুটি পুরো ফলের বেশি না খাওয়াই ভালো। আর যদি অল্প অল্প করে বিভিন্ন ধরণের ফল মিশিয়ে খান, তবে পরিমানে অল্প খাবেন। আর যদি ফলের বদলে শুধু জুস খেতে চান, তাহলে দিনে দুবার জুস খেতে পারেন। তবে এই ব্যাপারে ডাক্তারের সঙ্গে অবশ্যই পরামর্শ করে নেবেন।

ফল খাওয়ার সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন

  • পারলে অরগ্যানিক ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন এতে কেমিক্যাল ও পেস্টিসাইডের পরিমান অনেক কম থাকে।
  • বাজার থেকে কিনে আনার পর ভালো করে জল দিয়ে ধুতে হবে।
  • কাটা ফল খাবেন না। যখন খাবেন তার আগে কেটে নেবেন।
  • তাজা ফল অনেকক্ষণ ধরে জলে ডুবিয়ে রাখবেন না।

আপনার যদি নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যেস না থাকে, তবে কিভাবে তা অভ্যেসে পরিণত করবেন তা জেনে নিন।

আপনার ডায়েটে আরও বেশি ফল যোগ করার সহজ উপায়

গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যেস থাকা প্রয়োজন। তাই আপনার ডায়েটে আরও বেশি ফল যোগ করার কিছু উপায় নিচে উল্লেখ করা হল।

  • ব্রেকফাস্টে কর্ন ফ্লেক্স বা ওটস খাওয়ার সময় ইচ্ছে মতো ড্রাই ফ্রুইট বা তাজা ফল কেটে মিশিয়ে নিন।
  • পাউরুটি খাওয়ার সময় জ্যাম না খেয়ে কলাকে স্ম্যাশ করে লাগিয়ে নিয়ে খান।
  • ফলের রস বা জুস বানিয়ে খেতে পারেন।
  • দই ও ফল দিয়ে স্মুথি বানিয়ে নিতে পারেন।
  • কাস্টার্ড বানিয়ে তার ওপর পছন্দ মতো ফল ছড়িয়ে খেতে পারেন। এতে ফলও খাওয়া হবে সঙ্গে খেতেও দারুন লাগবে।

আশা করি, বুঝতে পারলেন একজন গর্ভবতী মহিলা ও গর্ভস্থ বাচ্চার জন্য ফল খাওয়া কতটা জরুরি। এই সময় আপনার শরীর ঠিক থাকলেই তবেই আপনার গর্ভের শিশুও ভালো থাকবে।
নিজের যত্ন করুন, আনন্দে থাকুন ও সুস্থ থাকুন।

References: